প্রকাশকের কলাম থেকে:
দেড় সহস্রাব্দি জুড়ে রচিত অসংখ্য সীরাত গ্রন্থের মধ্যে মুহাদ্দিস ইবরাহীম আলি কর্তৃক সংকলিত ‘সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ্’ গ্রন্থটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে লেখকের নিজের বিবরণীতে সীরাত পেশ করা হয়নি; বরং সীরাতের বিবরণী সম্বলিত বিশুদ্ধ হাদীসসমূহকে একের পর এক উল্লেখ করা হয়েছে। এদিক থেকে এটি মূলত একটি বিশুদ্ধ হাদীস-সংকলন মাত্র।
.
মুহাদ্দিস ইবরাহীম আলি কর্তৃক সংকলিত ‘সহীহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ্’ নামক গ্রন্থটিকে আমরা বাংলা অনুবাদে চার খণ্ডে প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছি। গত বছর রবিউল আউয়াল মাসে এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়, যেখানে স্থান পেয়েছে নবি স.-এর জন্মের আগ থেকে শুরু করে মদীনায় হিজরত পর্যন্ত সময়কার ঘটনাপ্রবাহ। গত রমাদান মাসে প্রকাশিত হয় এর দ্বিতীয় খণ্ড, যেখানে হিজরতের পর থেকে খন্দক যুদ্ধ পর্যন্ত সময়কার ঘটনাবলি স্থান পেয়েছে।
.
আলহামদু লিল্লাহ, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হলো গ্রন্থটির তৃতীয় খণ্ড। এ খণ্ডের পরিধি খন্দক বা আহ্যাব যুদ্ধ থেকে নিয়ে মূতা যুদ্ধ পর্যন্ত সময়কাল। এতে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি যেসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে, তা হলো :
.
❒ আহ্যাব যুদ্ধের নেপথ্য কারণ,
❒ এ যুদ্ধে নবি স.-এর অলৌকিক ঘটনাবলি,
❒ বানূ কুরাইযাকে কঠিন শাস্তি দেওয়ার কারণ,
❒ হুদাইবিয়ার অভিযান,
❒ সন্ধির শর্তাবলি ও দফাসমূহ,
❒ চুক্তি পালনে নবি স.-এর আন্তরিকতা,
❒ খাইবার যুদ্ধ,
❒ আত্মসাতের বিভীষিকা এবং
❒ বিভিন্ন সম্রাট ও শাসকের উদ্দেশে নবি স.-এর চিঠিপত্র।
মুহাম্মাদ স.-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে কেবল জাগতিক প্রশান্তি রয়েছে, তা নয়। একমাত্র তাঁর আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে পরকালীন মুক্তি। কেউ যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চায়, আল্লাহর দয়া পেতে চায়, পরকালীন সাফল্য অর্জন করতে চায়—তাকে অবশ্যই নবি মুহাম্মাদ স.-এর আদর্শ আঁকড়ে ধরতে হবে। কাজেই আল্লাহকে পেতে হলে, অবশ্যই নবিজিকে মেনে চলতে হবে। তাঁর রেখে-যাওয়া সুন্নাহর অনুসরণ করতে হবে। তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে হবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। তবেই কেবল ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন নাজাত পাওয়া সম্ভব হবে। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নবিজি কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোন কোন দিক-নির্দেশনা রেখে গেছেন আমাদের জন্যে ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা রাখতে হবে প্রতিটি মুসলিমকে। আর এই বিষয়ে জানার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে “সীরাত”। তাই এমন একটি বিশুদ্ধ সীরাত-গ্রন্থ আমাদের সামনে থাকা জরুরি, যেখানে কোনো ঐতিহাসিক বর্ণনা বা দুর্বল হাদীস থাকবে না। বরং স্বয়ং নবিজির জবানের মাধ্যমে ও তাঁর সাহাবিদের জবানের আলোকে নবিজির জীবনী বর্ণিত হবে। যেটাকে মুসলিমরা দলিল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে নির্দ্বিধায়। এ ক্ষেত্রে আরব-বিশ্বের বিখ্যাত হাদীসবিশারদ শাইখ ইবরাহীম আলি রহ.-এর লেখা সীরাত-গ্রন্থটির কোনো বিকল্প নেই। শাইখের এ কিতাবটি আজও আরবের মুহাদ্দিসদের নিকট রেফারেন্স-বুক হিসেবে সমাদৃত। কিতাবটি পাঠের মাধ্যমে প্রিয় নবি স.-এর জীবনে ঘটে-যাওয়া ঘটনাগুলোর এক নিখাঁদ চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠবে, যার মধ্যে থাকবে না কোনও সন্দেহ-সংশয়। রাসূল স.-এর নির্ভুল জীবনী জানার মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে আমাদের ভালোবাসা আরও সুদৃঢ় হবে। আল-হামদুলিল্লাহ, ইতোমধ্যেই সীরাতটির প্রথম ৩ খণ্ড “মাকতাবাতুল বায়ান” থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এবার সর্বশেষ খণ্ডটি প্রকাশ পেল।


Reviews
There are no reviews yet.